ফয়জুর রহমান স্যারের বাণী

সমস্ত প্রশংসা রাব্বুল আলামীন মহান আল্লাহ্র জন্য যিনি মানুষ সৃষ্টি করে তাঁদের পথ প্রদর্শনের জন্য কুরআন মাজীদ শিক্ষা দিয়েছেন। আমি কৃতজ্ঞ চিত্তে সাক্ষ্য দিচ্ছি-সেই আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই। তিনি একক এবং তাঁর কোন শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মানবতার মুক্তির দূত মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) আল্লাহ্র বান্দা ও রাসূল। তাঁর প্রতি অসংখ্য দরুদ ও সালাম।

একবিংশ শতাব্দীর এই বিপুল সম্ভাবনার যুগে উপনীত হয়ে প্রথমে কৃতজ্ঞতা জানাই সেই সুমহান আল্লাহতায়ালার, যিনি এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ড সৃষ্টি করে মানুষকে আশারফুল মাখলুকাত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। মানুষকে তিনি জগতে করেছেন তার প্রতিনিধি। আল্লাহর প্রতিনিধি মানুষ স্রষ্টার গুণে গুণান্বিত হয়ে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রামাণ করবে এটাই বাঞ্ছনীয়।

শিক্ষাই মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করে। আর এজন্য মানুষ সৃষ্টির শুরু থেকে শিখছে এবং জগৎ ধ্বংসের পূর্ব পর্যন্ত মানুষ শিখবে। যদি শিক্ষা মানুষের মনুষ্যত্ব বিকাশের সহায়ক না হয়, সেই শিক্ষা হবে কুশিক্ষার নামান্তর মাত্র। শিক্ষার মূখ্য উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিৎ? শুধু কি বেঁচে থাকা, সনদ অর্জন, অর্থ উপার্জন, নাম ও যশ অর্জনের প্রয়োজনের শিক্ষা? নাকি স্রষ্টাকে জেনে, মানব মাখলুকাতের গুণাবলিতে ভূষিত করে আল্লাহ্র খলিফা হওয়ার যোগ্যতা অর্জনে সক্ষম করে গড়ে তোলা। বেঁচে থাকার প্রয়োজনে পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জীবিকা অর্জনের কলা-কৌশল আয়ত্ব করাও শিক্ষার আর একটি উদ্দেশ্য।

শিক্ষা শুধু বেঁচে থাকায় হাতিয়ার, মনুষ্যত্ব অর্জনের প্রয়োজনে নয়-এ ধারনাই দিচ্ছে প্রচলিত শিক্ষানীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা। বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থায় জাগতিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। মানবীয় গুণাবলি অর্জনের লক্ষ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষানীতি ও পাঠ্যক্রম আজও প্রণীত হয়নি। পাঠক্রমে  ধর্মীয় মূল্যবোধের অনুপস্থিতিতে মানবিক গুণসম্পন্ন শিক্ষিত মানুষ খুব কমই সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের শিক্ষার্থীগণ জ্ঞানার্জন অপেক্ষা সনদ অর্জনকে প্রাধান্য দিচ্ছে, ফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাঙ্গন ও জাতীয় জীবনে আজ চরম নৈরাজ্য বিরাজ করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ পারছে না আদর্শ ও চরিত্রবান মানুষ সৃষ্টি করতে। জাতিকে সুনাগরিক উপহার দিতে প্রয়োজন ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা।

২৫০ বছর পূর্বে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক প্রণীত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু থাকলেও জনগণের নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের কারণে তখন এদেশে শিক্ষিত অমানুষ  কমই সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে মানুষের মাঝে ধর্মীয় মূল্যবোধ লোপ পাওয়ায় শিক্ষিত অথচ মানবিক মূল্যবোধ বর্জিত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ আমরা এক দুর্ভাগা জাতিতে পরিণত হয়েছি। তার প্রধান কারণ হলো জীবন-দর্শন সম্বন্ধে আমাদের সুষ্ঠু ও সঠিক ধারণার অভাব

Morality has its root in religion এ অমোঘ বাণীকে ভুলে গিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ বর্জিত পার্থিব শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে আমরা মনুষ্যত্বহীন হয়ে পড়েছি। নৈতিকতা বর্জিত শিক্ষা মানুষের মনুষ্যত্ববোধকে ধ্বংস করে সর্বনিকৃষ্ট জীবের স্তওে নামিয়ে দেয়। জাতীয় জীবনের সর্বত্র আজ এ দৃশ্য বিরাজমান।

সাম্য ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের প্রবক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষা-শিক্ষায় ও জ্ঞান-গরিমায় মানবকুলের এককালে গুরুর আসনে সমাসীন জাতি আজ সর্বস্তরে নির্যাতিত, নিগৃহীত ও নিন্দিত হচ্ছে। এ ঘৃণ্য অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে আমাদের সম্মুখপানে এগিয়ে যেতে হবে। মানবিক গুণ সম্পন্ন জাতি গঠনে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য আমাদের কাজ করে যেতে হবে।

আমাদের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যেখানে বালক-বালিকা আলাদাভাবে আদর্শ পরিবেশে লেখা-পড়ার সুযোগ পায়, সেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার কৌতুহলী মনের প্রশ্নের যথার্থ উত্তর শিক্ষকদের নিকট পায়। প্রচলিত যুগোপযোগী শিক্ষায় পারদর্শী করে তোলার পাশাপাশি ইসলামী দিক নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও সামাজিক সূল্যবোধের জাগরণ ঘটানোই আমার জীবনের মূল লক্ষ্য। আমার উদ্দেশ্য সে শিক্ষার প্রবর্তন করার যে শিক্ষায় ইহলৌকিক ও পরলৌকিক কল্যাণ সাধনের নিশ্চয়তা বিদ্যমান। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০০৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে আমাদের প্রতিষ্ঠানে বালক-বালিকাদের পৃথক দু’টি শিফট চালু করা হয়েছে। আমাদের এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার সকল প্রয়োজন মেটাতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।

আমার দীর্ঘদিনের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা, বিদ্যোৎসাহী ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের অনুপ্রেরনা, সুশীল ও সচেতন ধর্মীয় সমাজের উৎসাহ-উদ্দীপনা ও অনুরোধে এবং সর্বোপরি সকলের সহযোগিতায় ১৯৯৮ সালের মার্চ মাসে ‘ফয়জুর রহমান আইডিয়াল ইনষ্টিটিউট’ চালু করেছি। ইনশাআল্লাহ, হতাশ, দুর্দশাগ্রস্ত ও দিকভ্রান্ত এ জাতিকে আমরা প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলব। আপনাদের সকলের দোয়া, ভালোবাসা ও সর্বাতœক সহযোগিতাই আমাদের কাম্য।

 

নোটিশ বোর্ড

ডিজিটাল কনটেন্ট